পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক দরপতন কিছুটা যৌক্তিক আর কিছুটা অস্বাভাবিক —ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী

দেশের পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক দরপতনের পেছনে কিছুটা যৌক্তিক কারণ থাকলে এর পাশাপাশি অস্বাভাবিক প্রবণতা বা কারসাজি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী।

দেশের পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক দরপতনের পেছনে কিছুটা যৌক্তিক কারণ থাকলে এর পাশাপাশি অস্বাভাবিক প্রবণতা বা কারসাজি হয়ে থাকতে পারে বলে মনে করছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী। এসব কারণ উদ্ঘাটন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও জানান তিনি। গতকাল রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগে (ইআরডি) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানিয়েছেন।

গত মঙ্গলবার বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনে (বিএসইসি) প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরীর সভাপতিত্বে দেশের পুঁজিবাজারে আস্থা বাড়ানোর জন্য একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুঁজিবাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য বেশকিছু তাৎক্ষণিক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এসব কর্মপরিকল্পনার বিষয়ে বিস্তারিত জানানোর জন্য গতকাল ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী তার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে বিএসইসি কমিশনার ফারজানা লালারুখ উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘পুঁজিবাজারের সাম্প্রতিক দরপতন কিছুটা যৌক্তিক আর কিছুটা অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে। তবে এর প্রমাণ আমি এখন দিতে পারব না। আমরা দরপতনের কারণগুলো চিহ্নিত করতে কাজ করছি। অনেকেই আমাদের কাছে অভিযোগ করেন যে তারা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের প্রতি আমাদের সহানুভূতি আছে। কিন্তু এ ক্ষতি তো আর সরকার পূরণ করে দিতে পারবে না। তাই আমরা ব্যাপকভাবে আর্থিক স্বাক্ষরতা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নিচ্ছি। যাতে সবাই ভালোমতো জেনে-বুঝে এ বাজারে আসেন। পাশাপাশি ব্রোকারেজ হাউজের কর্মীদেরও পুঁজিবাজার-সম্পর্কিত পর্যাপ্ত জ্ঞান আছে কিনা সেটি নিশ্চিত করা হবে।’

কোনো কিছু হলেই পদত্যাগ দাবি করাটা কোনো সমাধান নয় উল্লেখ করে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের মূল সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের ব্যবস্থা করতে হবে। একজন পদত্যাগ করে আরেকজন দায়িত্বে এলেই সবকিছু সমাধান হয়ে যাবে তা নয়। আট মাস আগে দেশের অর্থনীতি আইসিইউতে চলে গিয়েছিল। সেখান থেকে বর্তমানে অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব শিগগিরই পুঁজিবাজারে দেখা যাবে। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের (আইপিও) মাধ্যমে কোম্পানির তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে আর্থিক প্রতিবেদনের জন্য আন্তর্জাতিক যে মান রয়েছে সেটি আমাদের বাস্তবতায় শতভাগ পরিপালন করাটা অনেক সময় সম্ভব হয় না। ফলে এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ কতটুকু পরিপালন করা হলে সেটিকে যথেষ্ট ভালো হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে আমরা সেটি নিয়ে কাজ করছি। যতটুকু নিশ্চিত করা না হলেই নয় ততটুকু নিশ্চিত করে কোম্পানিগুলোকে তালিকাভুক্ত করা হবে।’

বাজেটে পুঁজিবাজারের জন্য প্রণোদনা দেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে ড. আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেন, ‘বাজেটে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির কর ব্যবধান বাড়ানোসহ পুঁজিবাজারের জন্য কর প্রণোদনার বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে। তবে বাজেট চূড়ান্ত হওয়ার আগে এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না কত শতাংশ ছাড় দেয়া হবে। বিএসইসির পক্ষ থেকে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির মধ্যে করের ন্যূনতম ১০ শতাংশ ব্যবধান রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। ব্যাংক থেকে দীর্ঘমেয়াদি ঋণ নেয়ার সুযোগ সীমিত করার জন্য কাজ করা হচ্ছে। বিদেশী বিনিয়োগকারী ও প্রবাসীদের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগে আকৃষ্ট করার জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আশা করছি, পুঁজিবাজারের গভীরতা ও আকার সামনে আরো বাড়বে।’

বহুজাতিক কোম্পানিগুলোয় থাকা সরকারের শেয়ার ডিরেক্ট লিস্টিংয়ের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে ছাড়ার কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যেকোনো নীতি গ্রহণের আগে নানা দিক বিবেচনায় নিতে হয়। তবে এ ধরনের নীতির বিষয়টিও আমাদের বিবেচনার মধ্যে রয়েছে।’

আরও